যে কারণেই ধ্বংস হবে পৃথিবী, দাবী বিজ্ঞানীদের

শিক্ষা
Sunday-May-2021

যে কারণেই ধ্বংস হবে পৃথিবী, দাবী বিজ্ঞানীদের

যার সৃষ্টি আছে তার ধ্বংসও আছে। এ এক চিরন্তন সত্য। ঠিক একইভাবে এই পৃথিবীও প্রতিদিন ক্রমশ এগিয়ে চলেছে ধ্বংসের দিকে। এই নিয়ে বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিদ ও কসমোলজিস্ট স্টিফেন হকিং বহু ভবিষ্যৎ বানী করে গিয়েছেন। পৃথিবীকে এই ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য দিনরাত পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরাও। আর এই গবেষণার মাধ্যেই উঠে এসেছে বেশ কিছু তথ্য। বিজ্ঞানীর জানিয়েছেন ঠিক এই কারণগুলোর জন্যই ধ্বংস হবে পৃথিবীর।

সম্ভাব্য কারনগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence), পারমানবিক অস্ত্র, আগ্নেয়গিরি, জৈব অস্ত্র, মহাজাগতিক বিস্ফোরণ, সৌর ঝড়, এলিয়েন (যদি থাকে)।

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence):

 

মানবতার বিলুপ্তি- প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে স্থিতিশিল হয়ে উঠবে মানুষের জনসংখ্যা, এমনটাই দাবি বিজ্ঞানীদের। প্রযুক্তির প্রতি মানুষ এতটাই অভ্যস্ত হয়ে উঠবে যার ফলে মানব সভ্যতার দিন শেষ হবে৷

আবার কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার কারনে প্রযুক্তি নিজে নিজে কাজ করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে এ কারনে মানুষের তৈরী প্রযুক্তি মানব সভ্যতার ধ্বংশের কারন হতে পারে।

পারমানবিক অস্ত্র:

 

পারমানবিক অস্ত্র যে কতটা ভয়ংকর তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। কারন আমাদের এই পৃথিবীতে যে পরিমান পারমানবিক অস্ত্র মজুদ আছে তা দিয়ে পৃথিবীকে কয়েক বার ধ্বংশ করা যাবে।

কথিত আছে যে একবার কোন এক আলোচনা সভায় বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টান কে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে যদি কখনো ৩য় বিশ্ব হয় তাহলে কী ধরনের অস্ত্র দ্বারা তা অনুষ্ঠিত হবে?

উত্তরে আলবার্ট আইনস্টান বলেছিলেন যে আমি ৩য় বিশ্বযুদ্ধের কথা বলতে পারবো না তবে যদি কখনো ৪র্থ বিশ্ব হয় তাহলে সেটি অনুষ্ঠিত হবে বাশেঁর লাঠি-ঠ্যাংগা দ্বারা। এই কথার পেছনের কারন হচ্ছে কখনো যদি ৩য় বিশ্ব হয় তাহলে পারমানবিক শক্তিধর দেশগুলো তাদের পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে। আমি আগেই বলেছি যে থিবীতে যে পরিমান পারমানবিক অস্ত্র মজুদ আছে তা দিয়ে পৃথিবীকে কয়েক বার ধ্বংশ করা যাবে। তো বুঝতেই পারছেন যে ৩য় বিশ্ব যুদ্ধ হলে ৪র্থ বিশ্ব যুদ্ধ করার জন্য কেউই বেচেঁ থাকবে না।

আগ্নেয়গিরি:

 

পৃথিবীতে যে পরিমান সুপ্ত আগ্নেয়গিরি আছে সেগুলো যদি জেগেঁ ওঠে তাহলে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে।

আগ্নেয়গিরি- সারা পৃথিবী জুড়ে রয়েছে কয়েক শত আগ্নেয়গিরি। যার মধ্যে রয়েছে সুপ্ত ও জীবন্ত আগ্নেয়গিরি। যার সংখ্যা প্রায় ৫০০-এর মত। বিজ্ঞানীদের এক আংশের দাবী সুপার আগ্নেয়গিরি জেগে উঠলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। এই ৫০০ টি আগ্নেয়গিরির মধ্যে এমন ৪টি আগ্নেয়গিরি রয়েছে, যা চোখের পলকে পৃথিবীকে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। আর এই চারটি আগ্নেয়গিরির নাম তাই সুপার আগ্নেয়গিরি।

এই চারটি আগ্নেয়গিরি হল জাপানের অ্যায়রা কালডেরা, নিউজিল্যান্ডের টাউপো, আমেরিকার ইয়োলোস্টাইন ও ইন্দোনেশিয়ার লেক টোবা। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আগ্নেয়গিরি হল আমেরিকার ইয়েলোস্টোন। এটি হল পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সুপার আগ্নেয়গিরি। এই চারটে সুপার আগ্নেয়গিরির মধ্যে, যে কোনও একটি জেগে উঠলে বা লাভা উদগীরণ তা প্রায় ২০০০ মিলিয়ন সালফিউরিক এসিড বের করার সম্ভাবনা। যার ফলে শুধু পৃথিবী নয় ক্ষতি হবে সূর্যেরও।

জৈব অস্ত্র:

 

জৈব অস্ত্র- বিজ্ঞানীরা মনে করেছেন মানুষের গবেষণার ফলে সৃষ্টে হবে এমন কিছু ভাইরাস বা জীবানুর যা এক ভয়ঙ্কর রূপ নেবে। এর ফলে জীবজগতে নেমে আসতে পারে চরম বিপর্যয়। বর্তমান সময়ে যেমন করোনা ভাইরাস সারা বিশ্ব জুড়ে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনই কিছু ভাইরাসের প্রভাবে ধ্বংসের মুখে পড়তে হবে গোটা জীব সমাজকে। আর যার ফলে ধ্বংস হবে পৃথিবীর।

মহাজাগতিক বিস্ফোরণ:

 

মহাজাগতিক বিস্ফোরণ- পৃথিবীর ধ্বংসলীলা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। ধ্বংসের মুখে পড়তে চলেছে সৌর জগৎ-সহ গোটা বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড। বিজ্ঞানীদের মতে মহাকাশে পরপর এমন কিছু বিস্ফোরণ হচ্ছে যার প্রভাবে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে সৌর পরিবার। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পৃথিবী থেকে মাত্র ৩৯ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে বিশ্বের বৃহত্তম বিস্ফোরণ ঘটেছে। আর তা সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ‘বিগ ব্যাং’-এর পর এটিই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণ।

সৌর ঝড়:

 

সৌর ঝড়- সূর্যের উপস্থিতি পৃথিবীর টিকে থাকার জন্যে প্রয়োজন, এটা খুব সাধারণ বিষয়। সৌর শক্তি যা খুব দ্রুত পৃথিবীতে এসে উপস্থিত হয় যা পৃথিবীর প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই সূর্যের রশ্মির থেকেই নির্গত হওয়া সোলার ম্যাক্স, যা সূর্য থেকে নির্গত হওয়া সবচাইতে শক্তিশালী এক রশ্মি। এই আলোকরশ্মি খুব দ্রুত আঘাত হানতে পারে পৃথিবীতে। আর এর তাপ প্রবাহে জ্বলে পুড়ে ধ্বংস হবে পৃথিবীর।

এলিয়েন (যদি থাকে):

 

ভিনগ্রহি প্রানি বা এলিয়েন (যদি থাকে) মানব সভ্যতার বিনষ্টের কারন হতে পারে। এলিয়েন সম্পর্কে তেমন ধারনা না থাকায় এ বিষয়ে তেমন কিছু বলতে পারলাম না। কেউ যদি এলিয়েন সম্পর্কে কিছু জেনে থাকেন তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

Leave a Reply