বাংলাদেশের জন্য বিমান ছিনতাই

বাংলাদেশের জন্য বিমান ছিনতাই

বাংলাদেশের জন্য বিমান ছিনতাই  ২৫ শে মার্চ ঢাকায় ক্রাকডাইনের রাতে মতিউর নিজ গ্রামের বাড়ি রামনগরে ছিলেন । দেখা করলেন ইষ্ট বেঙ্গলের ক্যাপ্টেন নাসিম এবং লেফটেনেন্ট হেলালের সাথে । কিন্তু একজন পাইলট হিসেবে তিনি স্থল যুদ্ধে কতটা অবদান রাখতে পারবেন তা নিয়ে সবাই সন্দিহান ছিলেন । তাই আরও বড় একটি পরিকল্পনা নিয়ে তিনি পাকিস্থানে ফিরলেন ।

একটা যুদ্ধের অনেক আঙ্গিক থাকে রাইফেল ছাড়াও যোদ্ধা হওয়া যায় । পাকিস্থানিরা তখন আপ্রাণ চেষ্টা মুক্তিযুদ্ধকে পাকিস্থানের সাময়িক অভ্যান্তরিন সংকট বলে চালিয়ে দিতে ।  বিশ্ব জনমতের দৃষ্টি আকর্ষন করা তখন ভীষন জরুরি । ঠিক সেই সময় সামিরিক বহর থেকে বিমান চুরির ঘটনা সারা বিশ্বকে নাড়িয়ে তোলে ।

অগত্য মতিউর পণ করলেন বিমান চুরির কিন্তু ততদিনে পাকিস্থানিরা বাংলাদেশি পাইলটদের গ্রাইন্ডেড করে ফেলে । এক সাথে বসে আলেচনা করাটাও প্রায় অসম্ভব । তবে মতিউর এবং তার পরিবার পাকিস্থানিদের সন্দেহের বাইরে রাখলেন এবং মনে মনে একটি মোক্ষম সুযোগের অপেক্ষায় থাকলেন ।

ফাইটার বিমান ছিনতাই করাটা প্রায় অসম্ভব । নিরাপত্তা বেষ্টনি তো রয়েছে তাছারা অন্যান্য গ্রাউন্ড ক্র ছাড়া ফাইটার বিমান নিয়ে আকাশে ওড়াটা প্রায় অসম্ভব । তাই নবীন পাইলট অফিসারদের চালানো T33 একটি আদর্শ টার্গেট । মতিউর রহমান ছিলেন পাকিস্থানি পাইলট অফিসার রশিদ মিনহাযের প্রশিক্ষক এবং সেফটি অফিসার তাই তার টেকঅফের সময় মতিউরের ইশারায় অনিচ্ছা সত্বেও  বিমান থামালেন মিনহায ট্যাক্সিনরত ক্যানোপি খোলা বিমানে মতিউর রহমান উঠেই পাইলটের পাশ্বে ২য় সিটে বসে পরেন মতিউর । তারপর মিনহাযের মুখের মাস্ক সরিয়ে ক্লোরোফর্ম ভেজা রুমালটা মিনহাযের নাকে চেপে ধরলেন ।

ধস্তাধস্তি করতে করতে জ্ঞান হারালেন মিনহায কিন্তু অজ্ঞানের আগে বিমান হাইজ্যাকের মেসেজটা ঠিকই দিয়ে গেলেন কন্টোল রুমে । হঠাৎএয়ার ট্রাফিক কন্টোল টাওয়ারের রেডিওতে ভেসে এল Blue Bard 166 ইজ হাইজ্যাক্ট ।

একথা সুনে এয়ার ট্রাফিক কন্টোলারে থাকা অফিসার মুহুত্যের জন্য অসার বোধ করলেন । তিনি ধাতস্থ বোধ করার আগে T33 বিমানটি রানওয়ে ধরে বেরিয়ে গেল ।

তারপর নিয়মিত ডানে মোর নেওয়ার বিপরিতে ডানে মোর নিয়ে খুব নিচ দিয়ে উড়ে গিয়ে দুর আকাশে মিলিয়ে গেল । এই দিকে মিনহাযের জ্ঞান ফিরে আসায় মতিউরের সাথে তার ধস্তধস্তি চলছে । এদিকে তারা সীমানার খুব কাছে চলে আসে । আর হয়ত ১০ সেকেন্ড লাগত । এরি মধ্যে বিমানের কর্কপিটের ক্যানোপি টা হা করে খুলে যায় । মুহুত্যের মধ্যে বিমানের মধ্যে কিছূ ঘটনা ঘটে গেল ।

মতিউর বিমানে উঠে সিল্টবেল্ট লাগানোর সুযোগ পায়নি । তাই ক্যানোপি খোলার সাথে সাথে বাতাসের হ্যাসকা টানে ছিটকে গিয়ে মাটিতে আচড়ে পরেন তিনি । কর্কপিট খুলে যাওয়ায় এবং মতিউর বেরিয় যাওয়ায় বিমানের মধ্যে বাতাসের চাপের তারতম্য ঘটায় বিমানটি যেন আকাশে এক মুহূর্ত জন্য কড়া ব্রেক কষল । তারপর মতিউরের প্রানহীন দেহের কাছে পরে রইল । শত্রদলের সীমানায় ৩৫ বছর ধরে মতিউরের সমাধি পরিচিত ছিল এক গাদ্দার এর সমাধি হিসেবে । স্ত্রী এবং দুই কন্যাকে অবলীলায় রেখে চেনা ভুখন্ডের মুক্তির জন্য যিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অচেনা ভূখন্ডে । তাকে কি মনে রেখেছে  এই প্রজন্ম । স্বপ্ন দেখার জন্য সাহস লাগে কিন্তু কতটুকু সাহস থাকলে শত্রর ঘরে ঢুকে তার কলিজা নিয়ে আসার চিন্তা করতে পারে ।

এরকম আরও তথ্য জানতে ভিজিট করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *